ধর্ষণের অভিযোগে রিপন মিয়াকে জরিমানা, গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ

নেত্রকোনায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিসে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী (১৩) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত রিপন মিয়া (৩০) নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘রিপন ভিডিও’ নামে পরিচিত। তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাড়ির পেছনে রিপন মিয়াকে মেয়েটির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার দাবি করেন স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিস বসে। সালিসে রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রিপন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন।

রিপন মিয়ার গর্ভবতী স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী নির্দোষ। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। মানুষের মুখে শুনেছেন। সালিসে তার স্বামী ছাড়া পরিবারের অন্য কাউকে রাখা হয়নি এবং অন্যায়ভাবে তার স্বামীর ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, ভুক্তভোগী মেয়েটির আগে থেকেই তাদের পরিবারের সঙ্গে যাতায়াত ছিল।

সালিসে উপস্থিত সুজন মিয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে সালিস চলাকালে রিপন মিয়া উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পা ধরে ক্ষমা চান। এরপর সালিসে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর মা জানান, তার মেয়ে বর্তমানে এলাকার বাইরে রয়েছে। প্রথমে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তিনি বলেন, “আমরা সালিসের সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছি। মামলার বিষয়ে তেমন কিছু বুঝি না। মুরব্বিরা যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটাই মেনেছি।”

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram