নোয়াখালীর সদর উপজেলায় প্রবাসী বন্ধুর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত মাছের বারবিকিউ পার্টিতে মদ্যপানের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) নোয়াখালী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাকিবের মৃত্যু হয়। তিনি সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে।
অসুস্থরা হলেন—সাইফুল ইসলাম পাখি (২২), মো. টিপু (২৪), মনির হোসেন শান্ত (২৩) ও মোহাম্মদ রাসেল (২৩)। তাদের মধ্যে সাইফুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে কয়েকজন তরুণ মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। এক প্রবাসী বন্ধুর দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে ওই আয়োজন করা হয়।
পার্টিতে মদের সঙ্গে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে তারা সেবন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরদিন শনিবার ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে সাকিব ও টিপুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর প্রাইম হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বলেন, একাধিক মাদকদ্রব্যের বিষাক্ত মিশ্রণ পান করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।









