আত্মসমর্পণের পর কারাগারে ‘সন্ত্রাসী’ বগা

চট্টগ্রামের আলোচিত ব্যক্তি ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। খুলশী থানার একটি মামলায় আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চাঁদাবাজি, মাদক, জমি দখল ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বগা। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। খুলশী থানার মামলাটির নম্বর ০৮(১০)২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০৭ ও ৩৮৫ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালতের একজন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, বগা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে সিডব্লিউ মূলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগার পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম বারের সভাপতি তরিক আহমেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের চট্টগ্রাম শাখার সদস্যসচিব জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহমেদ কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৭টি মামলা রয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছিল পুলিশ।

গত ৪ সেপ্টেম্বর বগাকে গ্রেপ্তারে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময় বগার অনুসারীরা ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে হামলা চালান। এতে খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি গাড়িও।

পরে বগার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি গোপন সুড়ঙ্গের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। তাদের দাবি, ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান বগা। এ ঘটনায় বগা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বগাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় সবজি বিক্রেতা কিশোর হৃদয় (১৬) হত্যাকাণ্ডের পরও আলোচনায় আসেন বগা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সেভেন স্টার’ নামের একটি কিশোর গ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার ও তার ছোট ভাই রকিবুল ইসলাম ওরফে পিচ্চির বিরুদ্ধে। ওই হত্যাকাণ্ডে দুই কিশোর গ্যাংয়ের বিরোধের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডে বগার সরাসরি সম্পৃক্ততা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া গত ৬ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে বগাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় মেয়র শাহাদাত হোসেনের হস্তক্ষেপে অভিযান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে মেয়র এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। বগা সেদিন নগর ভবনে যাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার মধ্যে বগার আদালতে আত্মসমর্পণ এবং কারাগারে পাঠানোর আদেশের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

 

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram