স্বামীর সাথে ডিভোর্স শেষে বাড়ি ফেরা হল না বোনসহ রুবিনার

চার বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে আদালত থেকে বেরিয়েছিলেন রুবিনা আক্তার (৪০)। দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের অবসান ঘটিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় তার। দেনমোহর ও খোরপোষের শেষ কিস্তির টাকা হাতে নিয়ে বড় বোন শাহীনা আক্তারকে (৪২) সঙ্গে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দুই বোন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রুবিনা উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক অশান্তির জেরে রুবিনার চার বছরের সংসার ভেঙে যায়। এরপর তিনি আদালতের মাধ্যমে বিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন। সোমবার কক্সবাজার পারিবারিক আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে খোরপোষের শেষ কিস্তির প্রায় ১৫ হাজার টাকা বুঝে নিয়ে বড় বোনকে সঙ্গে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।

পথে খুনিয়াপালং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘প্রাণ’ কোম্পানির স্টিকারযুক্ত একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষ যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা ও শাহীনা আক্তারসহ অন্যদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বোনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনের একটি কঠিন অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে নতুনভাবে পথচলার আশা নিয়েই বাড়ি ফিরছিলেন রুবিনা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। দুই বোনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram