বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে না পেরে পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে পিন্টু দাস

চাঁদপুর শহরের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। লোকজনের কাছ থেকে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে না পেরে তারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নিজ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল।

পুলিশের বিশেষ দলের নেতৃত্ব দেওয়া সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর পিন্টু দাসের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখেছেন। এসব বন্ধকি স্বর্ণ ফেরত দিতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় চাঁদপুর থেকে একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর মডেল থানা পুলিশ তৎপরতা শুরু করে।

দুদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। তিনি শহরের মিজানুর রহমান চৌধুরী সড়কের সৌর ভিলায় ভাড়া থাকতেন। ওই বাসার মালিকের ছেলে রাসেল খান গত ২২ আগস্ট সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে পাওয়া যাচ্ছে না—এমন সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ তাদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং পুলিশের বিশেষ দলের অভিযানে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

উদ্ধারের পর তারা কেন আত্মগোপনে গিয়েছিলেন এবং স্বর্ণ বন্ধক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram