আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল। ‘ইউরোপ ও এশিয়া: সংলাপ থেকে অংশীদারত্ব ও সমৃদ্ধির পথে’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা বিজ্ঞানী ড. নূরুন্নবী, বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি, বাংলাদেশে সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ এবং চেক রিপাবলিকের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অন্দ্রেজ দোস্তাল।
এফসিসির আয়োজনে চলতি মাসের শুরুতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। ওই সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ঢাকা এ বিষয়ে দিল্লিকে অসন্তোষের কথা জানায়। এমনকি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষেত্রেও ওই আয়োজনকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নতুন এ আলোচনা অনুষ্ঠান বাতিলের ঘটনা ঘটল।
আয়োজকরা শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি পুলিশের ‘ব্যাখ্যাতীত হস্তক্ষেপের কারণে’ নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এফসিসি জানায়, স্বল্প সময়ের নোটিসে তাদের এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় এবং পরিস্থিতি আয়োজক ও এফসিসি সাউথ এশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
তবে দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টকে বলেন, সেমিনার আয়োজনের জন্য এফসিসির পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিলক মার্গ পুলিশ স্টেশন এফসিসিকে জানিয়েছিল যে কর্মসূচিটি ‘অনুমোদিত নয়’। এফসিসির লিখিত আবেদনের জবাবে পুলিশ জানায়, ‘প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু বিতর্কের কারণে এই কর্মসূচিটি অনুমোদিত নয়।’
আয়োজকরা এ ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশকেন্দ্রিক ছিল না। তবে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা জানিয়েছেন তারা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আ ফ ম গোলাম জিলানীরও। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতে যেতে পারেননি।
জিলানী জানান, তার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে বিষয়টিকে তিনি অস্বাভাবিক মনে করছেন না। দ্য ওয়্যারকে তিনি বলেন, তার সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এ বিষয়ে যে ধারণা রয়েছে, তা ‘ভুল’।
তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ত করে হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান আয়োজনের একাধিক উদাহরণ রয়েছে।
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিল সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস গ্রুপ, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ ও হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন। এতে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে জিলানীর নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া চলতি বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের ইউরোপীয় শাখা জানায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানেও ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে জিলানী অংশ নিয়েছিলেন।









