কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ নামে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা চার্জশিটভুক্ত আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহকে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে তিনি বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে কর্মরত। ২০১৮ সালে টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার সময় তিনি র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক ছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীতে তার পদমর্যাদা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল।

কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে একরামুল হক হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। এ ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই তালিকায় তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্লোবাল ম্যাগনিটস্কি হিউম্যান রাইটস অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যাক্ট’-এর আওতায় নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন।

এর আগে, গত রোববার কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে মানবতাবিরোধী অপরাধে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামির পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে তদন্ত কমিশনের অনুরোধে এর আগেই তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram