শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে শেষ রক্ষা মোদী সরকারের

টানা কয়েক মাসের ছাত্র-যুব আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে মোদী সরকারের শেষ রক্ষা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার।

চলতি বছরের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরীক্ষা বাতিল, পুনঃপরীক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া প্রতিবাদ দ্রুত দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল মূলত জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা। অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা থেকে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি প্ল্যাটফর্ম অল্প সময়েই হাজারো শিক্ষার্থীকে সংগঠিত করে। দিল্লির জন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তারা অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিল করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একের পর এক জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

প্রথমদিকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অবশেষে শনিবার (২৫ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পর সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে নতুন সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর তদন্ত জোরদারেরও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে এই ঘটনাকে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার করে সংগঠিত জেন-জি প্রজন্ম সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram