ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তিদের নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মোহাম্মদ নূরুল আলমকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে একই মামলায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ নূরুল আলম (৪৭) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর এলাকার মৃত আবু সালামের ছেলে। তিনি মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম এবং পেকুয়া উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সৌভ্রাত দাশ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোকাররম হোসাইন জানান, মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে মোহাম্মদ নূরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে এ দণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার সময় নূরুল আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় তদন্তে উঠে আসে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নূরুল আলম চারজন ভুয়া ও অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন। নিজের আর্থিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে তিনি ছৈয়দ আহমদ, মো. ইউনুছ, শামসুন্নাহার ও রহিম উল্লাহ নামে চারটি ভুয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করেন, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এসব জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
তদন্ত শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দেন।









