সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে শিল্পপুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় দিনের মতো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, কালো তালিকাভুক্তি ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাক শ্রমিকরা। সকালে বেতন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন তারা। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় নিউ এইজ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তারা বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন। এ সময় নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় আগের দিনের মতো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পরে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা নরসিংহপুর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারি গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি.কিউ. ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পোশাক শ্রমিককে আটক করা হয়।
শিল্পপুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিন দফা দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।









