চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনে সোমবার বিকালে নগরীর ষোলশহরের বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির নেতারা। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জারি করা ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ তালিকাসংবলিত গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক। তিনি বলেন, চসিক মেয়র পদটি প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দায়িত্ব। এই পদে থেকে ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। চসিক এলাকার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী থাকায় মেয়র পদে থেকে দলীয় প্রচারণা চালালে নির্বাচনে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নষ্ট হবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। চট্টগ্রামে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে তাকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী জোবাইর হোসাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার একটি অরাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন, যদিও তারা কেউই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। একই যুক্তিতে ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, আমরা তাকে সম্মান করি। তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ে মেয়র হয়েছেন, কিন্তু আমরা চাই তিনি জনগণের রায়ে মেয়র হন। চসিক নির্বাচনের মেয়াদ অনুযায়ী আর মাত্র এক সপ্তাহ সময় আছে। এই সময়ের মধ্যেই তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় এনসিপি কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, মেয়র পদে থেকে ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন এবং একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছেন, যা নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে গত ১৭ জানুয়ারি সিএমপি ৩৩০ জন ‘দুষ্কৃতকারীর’ নাম উল্লেখ করে তাদের নগরীতে প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। তালিকায় ‘জুলাই আন্দোলনের’ সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও আইনজীবী হত্যা মামলায় অভিযুক্ত কারাবন্দি ইসকনের সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ কয়েকজন পেশাদার অপরাধীর নাম রয়েছে।
এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান করে এনসিপির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের দায় এড়াতে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, পুলিশ যদি জানে কারা সন্ত্রাসী, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করাই পুলিশের দায়িত্ব। তালিকা প্রকাশ করে নগরীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা অকার্যকর এবং এতে অপরাধীরা আরও সতর্ক হয়ে যাবে। অবিলম্বে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না করলে এনসিপি তীব্র আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।









