আলিফ হত্যা মামলায় ৩৯ আসামির বিচার শুরু

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. জাহিদুল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়।

আদালতে এদিন প্রধান আসামিসহ ২৩ জন উপস্থিত ছিলেন। অপর ১৬ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই আদেশের প্রতিবাদে তার সমর্থকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের কাছেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে।

ঘটনার তিন দিন পর, ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫–১৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা সবাই নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে অভিযোগপত্র গ্রহণের সময় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ জনে। অভিযোগপত্রে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্রধান আসামি করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, জামিন নাকচের পর আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় দাসের উসকানিমূলক বক্তব্যে অন্যান্য আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আইনজীবী আলিফের ওপর হামলা চালায়। ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ‘সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে’ পরিকল্পিতভাবে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট বাদীর উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। পরে ৭ জানুয়ারি আলোচিত মামলাটি বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

সোমবার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে একজন আসামি রাজীব ভট্টাচার্য নিজেই আদালতে বক্তব্য দেন। উপস্থিত অন্য ২১ আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পলাতক ১৬ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী উপস্থিত থাকলেও তিনি অভিযোগ গঠনের বিরোধিতা করেননি।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এস ইউ এম নুরুল ইসলাম জানান, প্রধান আসামি চিন্ময় দাসের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় এবং অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ ও ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

মামলার বাদী জামাল উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৪ মাস পর অভিযোগ গঠন হওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। আশা করি, সাক্ষীরা নিরাপদে সাক্ষ্য দিতে পারবেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।’

উল্লেখ্য, ঘটনার দিন আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময় দাসকে বহনকারী প্রিজন ভ্যান ঘিরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা। পরে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করলে আইনজীবী ও আদালত কর্মচারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যেই রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আলিফকে হত্যা করা হয়।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram