সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরের জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকারপ্রধানের এ ধরনের কর্মসূচিকে ঘিরে নগরজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা দলীয় কার্যক্রম, স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও তাঁকে বরণে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে নগর ও জেলায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আনসার ও বিজিবির ২০ হাজারের বেশি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। সফরের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, গত আগস্টে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এবার দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেবেন তিনি। তাঁদের মতে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্মীয় উৎসবে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির উদ্যোগ সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে তারেক রহমানের এই আগমন চট্টগ্রামে প্রথম। তাঁর মতে, এই সফর কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং অসাম্প্রদায়িক, সাম্যভিত্তিক ও সম্প্রীতির ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গঠনের ধারণার বাস্তব প্রতিফলন। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের সম্প্রীতির বার্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রেডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি উত্তর জেলার জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেবেন। এ ছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতা, সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা করবেন। মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যরা সভায় অংশ নেবেন। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পাঁচ নেতাও থাকবেন। পাশাপাশি সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকায় সেখানকার জ্যেষ্ঠ নেতারা সভায় অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে প্রটোকল অনুযায়ী সব বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে পুলিশের পাশাপালি গোয়েন্দা সংস্থা গুলো কাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
