- চট্টগ্রাম সারাদিন - https://chattogramsaradin.com/ -

তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের কল্পলোক জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশন কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ তদন্তে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

অভিযোগকারীদের একজন মোজাম্মেল হক গত ২ আগস্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কল্পলোক জেলা মডেল মসজিদের উন্নয়নের কথা বলে মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে। এভাবে প্রায় তিন কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, মসজিদের দানবাক্স, শুক্রবার মুসল্লিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ এবং রসিদ বই ছাপিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া অর্থও ফাউন্ডেশন কমিটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব অর্থের হিসাব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, কল্পলোক জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনার জন্য সরকারি একটি নয় সদস্যের কমিটি রয়েছে। জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত এ কমিটিতে সিটি মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিও উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন। মডেল মসজিদ নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী, মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই কমিটির সিদ্ধান্তই প্রযোজ্য।

তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি পরিচালনা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশন মসজিদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্থ সংগ্রহ নিয়ন্ত্রণ করছে। মসজিদের দানবাক্স ও শুক্রবারের অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন, মসজিদের মাঠ ব্যবহার এবং অবকাঠামোতে পরিবর্তন বা ভাঙচুরের মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালে দেশের প্রথম দফায় উদ্বোধন হওয়া ১০টি মডেল মসজিদের মধ্যে কল্পলোক জেলা মডেল মসজিদও ছিল। উদ্বোধনের পর মসজিদের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো ইমাম ও মুয়াজ্জিন দেখাশোনা করতেন। পরে ২০২২ সালের পর এম এ শুক্কুরকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশন কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ধীরে ধীরে কমিটির কার্যক্রম বাড়তে থাকে। তবে দীর্ঘ সময় কমিটিটির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ছিল না বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে সরিয়ে দিয়ে ফাউন্ডেশন কমিটি মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর দানবাক্স, মুসল্লিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এমনকি কয়েকটি রমজানে কমিটির পক্ষ থেকে হাফেজ নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে প্রায় দুই মাস আগে ‘কল্পলোক জেলা মডেল মসজিদ মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ নামে সংগঠনটি ‘দি সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০’-এর অধীনে নিবন্ধন নেয়। এর নিবন্ধন নম্বর সি.এইচ.এস-৭৭১/২০২৬। নিবন্ধিত কমিটির সভাপতি এম এ শুক্কুর এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটি থাকার পরও পৃথক একটি সংগঠনের মাধ্যমে মসজিদের কার্যক্রম ও অর্থ নিয়ন্ত্রণ করা নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অভিযোগের বিষয়ে মুসল্লি কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমিও শুনেছি কমিটি হয়েছে। তবে কে বা কারা টাকা আত্মসাৎ করেছে, তা আমি জানি না।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মোস্তফা মনসুর বলেন, ‘তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছি। ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও মডেল মসজিদ নীতিমালায় মুসল্লি ফাউন্ডেশন করার কোনো নিয়ম নেই। আমরা দ্রুত কমিটির সদস্যদের ডাকব। এরপর তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’