- চট্টগ্রাম সারাদিন - https://chattogramsaradin.com/ -

৬ মাস পর উৎপাদনে ফিরল সিইউএফএল

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়।

এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ সিইউএফএলের উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ ফিরে এসেছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। উৎপাদন শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়েছে।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আজ সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।’

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর আমরা উৎপাদনে ফিরেছি। এই সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

কাফকোর পাশেই অবস্থিত সিইউএফএলে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে। কারখানাটির পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়।

একসময় কারখানাটির দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। তবে বিভিন্ন কারণে বর্তমানে এর কার্যকর উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটাই কমেছে।

কারখানাটির গত কয়েক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিইউএফএল মাত্র পাঁচ দিন চালু রাখতে পেরেছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারখানাটি বন্ধ ছিল। পরে একই বছরের অক্টোবরে তা পুনরায় চালু করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি বারবার বন্ধ ও চালুর মধ্য দিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আবারও উৎপাদনে ফিরল দেশের অন্যতম এই সার কারখানা।