- চট্টগ্রাম সারাদিন - https://chattogramsaradin.com/ -

দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে: তারেক রহমান

তারেক রহমান

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে বিশৃঙ্খলা থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন পেছনে তাকানোর সময় নেই। জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দেশের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশের সম্পদ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হলেও কাজ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই এখন দেশ গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণের সমর্থন থাকলে জনগণের স্বার্থে নেওয়া সব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। দুস্থ মানুষকে শুধু সহায়তা নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করতে হবে। তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশেও পাঠানো হবে।

‘২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমের হাতে রূপান্তর করতে চাই’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষ যেন নিজের শ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পবিপ্লব ঘটাতে হবে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিবৃষ্টিতে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০ পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে। দুস্থ নারীদেরও সহযোগিতা করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে। চলতি বছর প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় আগামী অর্থবছরের মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

লবণচাষিদের বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা করে লবণের একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যে মূল্য লবণচাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। শিগগিরই সেই মূল্য ঘোষণা করা হবে।

সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ সমুদ্র বাংলাদেশের বিশাল সম্পদ। এই সম্পদ কাজে লাগিয়ে শিল্প-কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

চট্টগ্রামে চীনের জন্য বরাদ্দ করা এলাকায় কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে। সেই অর্থ দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কাজে লাগানো হবে।

তিনি বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১০ বছরের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিকল্পনার প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

জনসভায় বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা আবদুল করিম।