চট্টগ্রামের মানুষকে সৃষ্টিশীল বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষের সৃষ্টিশীলতা এবং ঐতিহ্য রয়েছে। এখানকার মানুষের উষ্ণতা ও সহযোগিতার জন্যই ডিসি পার্কের মতো চমৎকার উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে। আমি আশা করি, এমন উদ্যোগ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়বে।”
আজ (৪ জানুয়ারি, শনিবার) দুপুরে চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুল উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, “বর্তমানে দেশে অন্তবর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। দীর্ঘ দিনের অনিয়ম ও দুশাসনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্তরে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংস্কারের জন্য কমিশন কাজ করছে এবং তাদের সুপারিশের আলোকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
১৩৬ প্রজাতির ফুলের সমারোহ নিয়ে ডিসি পার্কে আয়োজন করা হয়েছে “চট্টগ্রাম ফুল উৎসব-২০২৫”। উৎসবের প্রতিপাদ্য—“ফুলের মতন আপনি ফোটাও গান”—এবং এটি তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা, চট্টগ্রাম জেলা স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো. নোমান হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবের একান্ত সচিব ড. জয়নাল আবেদীনসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “প্রায় ১০ বছর ধরে ডিসি পার্কের এই এলাকা অবৈধ দখলদারদের হাতে ছিল, যেখানে মাদক ও অন্যান্য অপকর্ম চলত। আমরা ১৯৪ একর জায়গাটি দখলমুক্ত করে সংস্কার করে ডিসি পার্ক হিসেবে পুনরুদ্ধার করেছি, আর এখন এখানে লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ।”
এই বছর ফুল উৎসবে থাকবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল, গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুরি উৎসব, ফুলের সাজে একদিন, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচসহ আরও অনেক আকর্ষণ। এবারের বিশেষ আকর্ষণ হলো ভাসমান ফ্লাওয়ার গার্ডেন।
এছাড়া, এই ফুল উৎসবটি উত্সর্গ করা হয়েছে ১৯৭৫ সালের জুলাই-আগস্টে নিহত সকল শহীদদের প্রতি। এই উপলক্ষে, গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণে স্থাপন করা হয়েছে একটি গণঅভ্যুত্থান কর্ণার।