বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত আরও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নিতে দেশটি রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বুধবার মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে এক জনসভায় এ তথ্য জানান তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “অনেকেই বলতেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান।’ কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার তো তাদের গ্রহণ করতেই রাজি ছিল না। সম্প্রতি তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।”
তিনি বলেন, এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এ ধরনের বিষয়ে সতর্ক ও কার্যকর কূটনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা স্থাপনায় হামলা চালানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করে। হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের বেশিরভাগই বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে।
এদিকে একই জনসভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শরণার্থীদের দেশটির আইন মেনে চলার আহ্বান জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, আইন লঙ্ঘন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আগেও সতর্ক করেছি, আবারও করছি। পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শরণার্থী শিবির ও অনুমোদিত এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও যেন তাদের উপস্থিতি না থাকে। এটি মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না। আইন ভঙ্গ করলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
