অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন (চুপ্পু)। শুক্রবার বিকেলে তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং অটোনোমিক নিউরোপ্যাথিতে আক্রান্ত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন গত বুধবার বিকেল থেকেই শুরু হয়। পরে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কয়েক ঘণ্টা পরই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের মাধ্যমে তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ছিল নানা রাজনৈতিক অস্থিরতায় আলোচিত। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি দায়িত্বে বহাল ছিলেন। সংসদ বিলুপ্তির আদেশ, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ এবং বিভিন্ন অধ্যাদেশে অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন সংগঠন তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করলেও সাংবিধানিক সংকট এড়াতে তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথাও প্রকাশ করেছিলেন। স্বাস্থ্যগত কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিদেশে চিকিৎসা নেন রাষ্ট্রপতি। ২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে তার কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি হয়। চলতি বছর যুক্তরাজ্যে এনজিওপ্লাস্টি করে হৃদযন্ত্রে একটি স্টেন্ট বসানো হয়। সম্প্রতি ব্যাংককেও চিকিৎসার জন্য যান তিনি।
এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর বিকেল সোয়া ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।









