চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী আস্তানা শরীফের আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন পীরে তরিকত, মাওলানা শাহ মুহাম্মদ জিল্লুর রহমান আলী শাহ (রহ.)। তিনি সৈয়দুল আজম হযরত হাফেজ হাকিম শাহ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.)-এর যোগ্য উত্তরসূরি ও সাহেবজাদা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন।
জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি বেতাগী দরবার শরীফের আশেক-ভক্ত ও মুরিদদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে আধ্যাত্মিক দাওয়াত ও খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর-জাহানপুর ইউনিয়ন এবং রাউজান উপজেলার হলদিয়া-উত্তর সর্তা এলাকায় তিনি নিয়মিত সফর করতেন।
১৯৮৫ সালে তিনি দক্ষিণ ধর্মপুর ইউনিয়নে তাঁর পিতার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে রহমানিয়া মুহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি প্রায়ই মাদ্রাসা পরিদর্শনে যেতেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ধর্মপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য মরহুম আলহাজ আলী আহম্মদ কোম্পানির সঙ্গে আলী শাহ হুজুরের ছিল অত্যন্ত আন্তরিক ও গভীর সম্পর্ক। হুজুর দক্ষিণ ধর্মপুরে গেলে অধিকাংশ সময় তাঁর বাসভবনেই অবস্থান করতেন। আলী আহম্মদ কোম্পানি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে হুজুরের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করতেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, হুজুর আলী আহম্মদ কোম্পানিকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত কক্ষটি এখনও সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনায় জানা যায়, ইন্তেকালের প্রায় এক বছর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী শাহ হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আলহাজ আলী আহম্মদ কোম্পানিকে স্নেহভরে নিজের হাতে পাগড়ি পরিয়ে দেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা ঘটনাটিকে পীর-মুরিদের গভীর ভালোবাসার এক স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এছাড়া জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পূর্ব পাশে অবস্থিত পিপলস হাসপাতালে আলী শাহ হুজুর মরহুম আলহাজ আলী আহম্মদ কোম্পানিকে খেলাফত প্রদান করেন। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য, খাদেম ও ভক্তসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের ভাষ্যমতে, খেলাফত প্রদানকালে আলী শাহ হুজুর তাঁর পীর ও পিতার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে নিজ হাতে আলী আহম্মদ কোম্পানির মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন।









