ফটিকছড়ি উত্তর হলেও দক্ষিণে সদর হওয়ার প্রতিবাদ

নতুন অনুমোদন পাওয়া ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর উত্তরাঞ্চলের পরিবর্তে দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা। তারা গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর স্থাপনের দাবিতে সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর পক্ষ থেকে এ আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে বক্তারা বলেন, উত্তর ফটিকছড়ির মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন উপজেলার অনুমোদন পাওয়ায় তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তবে বর্তমান উপজেলা সদর থেকে দীর্ঘ দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত সুবিধাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। এ বাস্তবতায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর—এই চার ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন গণশুনানির আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণাঞ্চলের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের দাবি, দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুর উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশিত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং ভোটার রয়েছেন প্রায় সোয়া এক লাখ। এত বড় জনগোষ্ঠীর যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

তাদের দাবি, উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নকে আগে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা কাঠামোতেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি প্রভাবশালী মহলের চাপে সেটিকে নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী সাত দিনের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর স্থাপনের বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ মেটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহাজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনী, খালেদুল আনোয়ার ও জহির রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram