লোহাগাড়ায় শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সংঘর্ষ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় একটি কওমি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছুরিকাঘাতে একজন আহত হন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং একটি কক্ষে আটকে রাখা কয়েকজনকে উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা এলাকার হোসাইনিয়া আজিজুল উলুম মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসাটির শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহিম (৪৭)-এর বিরুদ্ধে নূরানী শ্রেণির সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী শিশুটি বিষয়টি তার মাকে জানালে সোমবার দুপুরে শিশুটির মা ও স্বজনরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে মারধর করেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় আবার আসতে অনুরোধ জানায়।

পরে রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বজনরা মাদরাসায় গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় মাদরাসার বাবুর্চি আবু বকর ছিদ্দিক ছুরিকাঘাতে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা ভুক্তভোগীর কয়েকজন স্বজনকে একটি কক্ষে আটকে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীর মামা মো. নাবেদ বলেন, “আমার ভাগ্নি কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যার কথা জানাচ্ছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”
মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শিব্বির বলেন, “আমি অসুস্থ। ঘটনাটি গতকাল রাতেই সমাধান হয়ে গেছে। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। থানায় যোগাযোগ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “মাদরাসাপড়ুয়া এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারধর ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি এবং অবরুদ্ধ আটজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি।”

তিনি আরও বলেন, “উভয় পক্ষই তাদের আর্থ-সামাজিক বিষয় বিবেচনায় এখনো মামলা করতে রাজি হয়নি। তবে কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও মাদরাসাটিতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল।

WhatsApp
Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
Telegram