আনোয়ারায় কনকনে শীতে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (আজ) বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই বছর বয়সী ওই ছেলেশিশুটির মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকা থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। অন্য শিশুটি চার বছর বয়সী একটি মেয়ে। শীতের মধ্যে সড়কের পাশে পড়ে থাকা শিশু দুটিকে প্রথমে নিজের কাছে রাখেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মহিম উদ্দিন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন তাদের হেফাজতে নেয়।
গত মঙ্গলবার আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার শিশু দুটিকে নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে যান। জেলা প্রশাসক চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচের দায়িত্ব নেন এবং মেয়েশিশুটিকে মহিম উদ্দিনের জিম্মায় দেন। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় ছেলেশিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলম। তাঁর বাড়ি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকায় রিকশা চালাতেন। ছয় মাস আগে তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছাড়েন এবং আর ফেরেননি।
এ ঘটনায় গত ৩১ ডিসেম্বর আদালত বিষয়টি আমলে নেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেন আনোয়ারা থানাকে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপের লিখিত প্রতিবেদন ৫ জানুয়ারির মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পর পুলিশ শিশু দুটির বাবা খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, মারা যাওয়া শিশুটির দাদি লাশ নিতে চট্টগ্রামে এসেছেন। মানিকছড়ির ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।









