জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন এবং তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার দুদকের উপসহকারী পরিচালক আপেল মাহমুদ বিপ্লব বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
দুদকের করা প্রথম মামলার এজাহার অনুযায়ী, সাবেক কাউন্সিলর ও ব্যবসায়ী জিয়াউল হক সুমন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৮৬ লাখ ৯০ হাজার ২৩৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেন। পাশাপাশি তার নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৫১ লাখ ১০ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, জিয়াউল হক সুমন ২০২২ সালের ২৭ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, তার প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ দাখিলকৃত বিবরণীতে প্রদর্শিত সম্পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এছাড়া ২০১৩-১৪ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষ পর্যন্ত প্রদর্শিত আয়ের একটি বড় অংশের পক্ষে গ্রহণযোগ্য রেকর্ডপত্র তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী শাহানাজ আকতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি স্বামীর সহায়তায় ২ কোটি ২ লাখ ২৬ হাজার ২৬৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রেখেছেন। এ ঘটনায় শাহানাজ আকতার ও জিয়াউল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, শাহানাজ আকতার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শিত আয়ের তুলনায় তার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। যাচাইয়ে তার নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি গ্রহণযোগ্য আয়ের ঘাটতি পাওয়া গেছে।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোর তদন্তকালে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে গত ২২ ডিসেম্বর মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়।









