চট্টগ্রামের পটিয়া আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম। তবে এই মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের উপেক্ষা করে অতীতে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত এক নেতাকে প্রার্থী করায় স্থানীয় পর্যায়ে হতাশা নেমে এসেছে।
গত সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টিতে প্রার্থী ঘোষণা হয়, যেখানে চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) আসনে এনামুল হক এনামের নাম প্রকাশিত হয়।
মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পটিয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, ‘বিতর্কিতদের টাকা ও প্রভাবই এখন বিএনপির যোগ্যতার মাপকাঠি।’
জনপ্রিয় ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সবই এস আলম খেলা! জুলাই বিপ্লবের পর এস আলমের গাড়ি নিরাপদে সরানোর ঘটনায় অভিযুক্ত এনামকে সাময়িক বহিষ্কার করলেও দুই মাস পরই প্রার্থী করা হলো।’
আরেক ইউটিউবার জেকব মিল্টন মন্তব্য করেন, ‘তারেক রহমানের কাছে নীতি নয়, নোটই বড়।’
গত ২৯ আগস্ট রাতে এস আলম গ্রুপের ওয়্যারহাউজ থেকে বিলাসবহুল ১৪টি গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামসহ তিনজনের দলীয় পদ ২ সেপ্টেম্বর স্থগিত করা হয়।
তবে গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে এনামুলসহ তিন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এনামুল হকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এনামুল হক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, অথচ আন্দোলন–সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতারা উপেক্ষিত।
স্থানীয় এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যারা আন্দোলনের সময় ঘরে ছিলেন, তারা আজ প্রার্থী। যারা মামলা খেয়ে মাঠে ছিলেন, তারা মূল্যায়ন পেলেন না।’
দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা মনে করেন, বিতর্কিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচনের মাঠে কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবেন, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।









